
ডেস্ক :
ডুমুরিয়ায় আশির দশকে নির্মিত ঘোনারদাড়া-আমভিটা ৪ কিলোমিটার কেয়ার রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। গত ৪৬ বছর সংস্কারের অভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম থেকে বছরের প্রায় চার মাস পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ও রংপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিলের মধ্যদিয়ে আশির দশকে ঘোনারদাড়া খালের পাশ দিয়ে নির্মিত হয় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৫ ফুট প্রশস্ত ঘোনারদাড়া-আমভিটা কেয়ার রাস্তাটি।আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ কর্তৃক পল্লী এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য তৎকালীন সরকারের গৃহীত একটি ঐতিহাসিক প্রকল্পের নাম ‘রুরাল মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম বা আরএমপি’। মূলত এ প্রকল্পের আওতায় রক্ষণাবেক্ষণ করা গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো কেয়ার রাস্তা হিসেবে পরিচিত। এ পর্যন্ত বহু সরকারের পালাবদল হয়েছে। দেশের অনেক উন্নয়নও ঘটেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি! যার ফলে এ অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। রাস্তাটি উন্নয়ন হলে এলাকার সকলের যাতায়াত সহজতরসহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমবে।এ বিষয় স্থানীয় তায়েজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, ইসরাফিল সানা, নেছার আলী, সলেমানসহ অনেকেই বলেন, ‘এ অঞ্চলে একটা সময় জনবসতি কম ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক বসতি হয়ে গেছে। কয়েক’শ বাড়ি ঘর গড়ে উঠেছে। তাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। গত ৪ বছর বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি তলিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে রাস্তার অনেক জায়গায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও একেবারেই ভেঙে গেছে। বর্ষাকালে প্রায় কোমর পানি উঠে যায় রাস্তার উপর। তখন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এলাকার মানুষের।’এ বিষয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ বলেন, ‘দীর্ঘ বছরের রাস্তাটি আজও বেহাল অবস্থা, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। এত মানুষের চলাচলের রাস্তা, অথচ উন্নয়ন হয়নি! বর্তমান বিএনপি সরকার জনদুর্ভোগ লাঘবে যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন ও নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগার লবি প্রাণপণ চেষ্টা করছেন অবহেলিত ডুমুরিয়ার উন্নয়নের জন্য। মানুষের কল্যাণে ঘোনারদাড়া-আমভিটা রাস্তাটি দ্রুত উন্নয়নের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।’এ বিষয় উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ দারুল হুদা জানান, ‘রাস্তাটি যদি আইডিভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে আগামী অর্থবছরে উন্নয়নে প্রস্তাব পাঠানো হবে। আর যদি আইডিভুক্ত না হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে আইডি অন্তর্ভুক্তপূর্বক পরবর্তীতে রাস্তার উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।’
